নিজামের মিষ্টির গপ্পো শুরু অইছে ১৯৬৫ সালে। প্রথম আলোর কাছে দ্যাওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠাতা মো. নিজামুদ্দিন জানাইছিলেন, একদিন চা বানানোর পর তার কাছে ম্যালা দুধ বাইচ্চা যায়। ওই দুধ জ্বাল দিয়া মাওয়ার মতো কইরা তিনি মিষ্টির ওপর প্রলেপ দেন। নতুন ধরনের ওই মিষ্টি খাইয়া ক্রেতারা প্রশংসা করেন। পরের বছর ১৯৬৬ সালে স্থানীয় তেরশ্রী কলেজের এ্যাক্টা অনুষ্ঠানে অতিথিদের এই মিষ্টি দিয়া আপ্যায়ন করা অয়। হেইহান থিক্যাও মিষ্টিডা প্রশংসা পায়। ধীরে ধীরে চারপাশে ছড়াইয়া পড়ে এর পরিচিতি।
২০২৩ সালে প্রথম আলো নিজামের মিষ্টি নিয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করলে প্রতিষ্ঠানটির বয়স ৫৮ বছর কওয়া অইছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানডার ৬১ বছর পূর্ণ অইতেছে। তয় সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে এইডারে প্রায় ৬০ বছরের ঐতিহ্য বইলাও উল্লেখ করা অইছে। প্রতিষ্ঠার সাল নিয়া ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যায়, তাই এই তথ্যডা বর্তমান মালিক বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থিকা আবার নিশ্চিত করা ভালো।
এই মিষ্টির মূল বৈশিষ্ট্য অইল এর মাওয়া বা দুধের আবরণ। কারখানায় দুধ জ্বাল দিয়া ছানা তৈরি করা অয়। ছানা দিয়া মিষ্টি বানানোর পর ওইডা ঠান্ডা করা অয়। এরপর মিষ্টির গায়ে দ্যাওয়া অয় দুধের মাওয়ার প্রলেপ। এইভাবেই তৈরি অয় পরিচিত ‘নিজামের মাওয়া মিষ্টি’।
মাওয়া মিষ্টির পাশাপাশি এইহ্যানে বানানো অয় মালাই চপ, শাহি চমচম, কিরিম চমচম, শাহি কদম, সন্দেশ আর আফলাতুন ছানা। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে কওয়া অইছিল, তখন কারখানায় আটজন কারিগর কাম করতেন। প্রতিষ্ঠাতা নিজামুদ্দিনের ছোট পোলা সাইফুল ইসলাম কামকাজ দেইখা রাখতেন।
সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে নিজামের মিষ্টির নতুন পদ ‘টফি সন্দেশ’-এর কথাও আইছে। ওই প্রতিবেদনে কওয়া অইছে, টফি সন্দেশ প্রতি পিস ১৫ ট্যাকা আর প্রতি কেজি ৭৫০ ট্যাকা। মাওয়া মিষ্টির দাম আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ ট্যাকা আর প্রতি কেজি ৪২০ ও ৪৫০ ট্যাকা কওয়া অইছে। তয় এই দাম ২৩ মে ২০২৬-এর প্রতিবেদনে দ্যাওয়া অইছিল। বর্তমান দাম জানার লাইগ্যা দোকানের কাউন্টার থিকা আবার নিশ্চিত অইয়া নেওয়া ভালো।
নিজামের মিষ্টির অস্তিত্বের সরকারি রেকর্ডও পাওয়া যায়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘Nezam Sweets’ নামে তেরশ্রী, ঘিওরে এ্যাক্টা নিবন্ধিত মিষ্টান্ন কারখানা আছে। হেইহ্যানে আটজন শ্রমিকের তথ্যও দ্যাওয়া অইছে।
তয় এই গপ্পোর সবচাইতে বড় পরিবর্তন আইছে প্রতিষ্ঠাতা নিজামুদ্দিনের জীবনে। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ‘Nizam Sweets - নিজাম মিষ্টি, Ghior, Manikganj’ নামে পরিচালিত এ্যাক্টা অনলাইন পেজে জানানো অয়, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নিজাম উদ্দিন ওই দিন হকাল ১০টা ২০ মিনিটে মারা গেছেন। এই তথ্য কোনো সংবাদপত্রের খবর থিকা না, প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ওই অনলাইন পেজ থিকা পাওয়া গেছে। তাই এই তথ্য উল্লেখ করার সময় ‘প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থিকা জানানো অইছে’ বইলা লেখা নিরাপদ।
নিজামের মৃত্যুর পরও তার তৈরি মিষ্টির ব্যবসা চলতেছে। মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড় এলাকাতেও নিজামের মিষ্টির এ্যাক্টা শাখা আছে। ব্যবসায়িক তালিকায় ওই শাখার ঠিকানা খালপাড় ব্রিজ, শহীদ তোজু সড়ক এবং ফোন নম্বরও দ্যাওয়া আছে।
একসময় তেরশ্রী বাজারের ছুট পরিসর থিকা যে মিষ্টির যাত্রা শুরু অইছিল, হেইডা এখন মানিকগঞ্জের পরিচিত খাদ্যঐতিহ্যের এ্যাক্টা অংশ। ছয় দশকের বেশি সময় পেরাইয়া গেছে, প্রতিষ্ঠাতা আর নাই। তয় তার নামে পরিচিত মিষ্টির দোকান এখনো মাইনষের স্বাদ আর স্মৃতির লগে জড়াইয়া আছে।
সময় বদলাইছে, মানুষ বদলাইছে, মিষ্টির তালিকাতেও আইছে নতুন নতুন পদ। তয় নিজামের মাওয়া মিষ্টির স্বাদ আর তেরশ্রী বাজারের লগে জড়াইয়া থাকা এই গপ্পোডা এখনো পুরান অয় নাই। বরং ছয় দশক পেরাইয়াও মাইনষের মুখে মুখে ফিরতেছে নিজামের মিষ্টির নাম।